ধর্ম কি পৃথিবীর উন্নতির পরিপন্থী?
বর্তমান যুগে বৈজ্ঞানিক চিন্তাবিদ, মনস্তত্বাবিদ, দার্শনিক ধর্মের প্রতিকূলে কথা বলছেন। তাদের যুক্তি হচ্ছে ধর্ম মানুষের উন্নতির বাধাস্বরূপ কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস দ্বারা মানুষকে বিপথগামী করে। ধর্ম মানুষকে নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের সত্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। ধর্ম সম্বন্ধে বিচার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমরা কিন্তু দেখি, বৌদ্ধ ধর্ম সে পর্য্যায়ে পড়েনা।
এমন সময় আসবে যখন উপরোক্ত পর্য্যায়ের বুদ্ধিজীবিরা ধর্ম সম্বন্ধে সন্দিহান বা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বুদ্ধের প্রচারিত ধর্মেকে একটা বাজে ধর্ম বলে এড়িয়ে যেতে পারবে না। কারণ বুদ্ধ খাঁটি সত্যই প্রচার করেছেন এবং ইহা চিরন্তর। যে সত্য অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিনিয়ত বদলায় তা কখনো খাঁটি সত্য বলে গ্রহণ করা যায়না। সে জন্যই বৌদ্ধ ধর্মকে একটা আদর্শ ধর্ম বলে আখ্যায়িত করা যায়। কেননা ইহা মানুষকে আদর্শ নির্দেশ করে। যেহেতু এ ধর্মের সত্য ও সাধুতা বিদ্যমান সেহেতু যে কোন পরিস্থিতিতে এধর্ম বৈজ্ঞানিক বা চিন্তাবিদের চ্যালেঞ্জে মোকাবেলা করতে সক্ষম। বুদ্ধের বাণী চিরন্তন বুদ্ধিজীবিরা যে দিন পরিপূর্ণভাবে বুদ্ধের বাণীকে বুঝতে পারবে সেদিন তারা তাঁর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করবে। সুতরাং বুদ্ধের প্রচারিত ধর্ম আদিকাল থেকে সত্য বলে প্রমাণিত হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এর নিজস্ব সত্তা নিয়ে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে এবং এ ধর্ম মানুষের সৎ ও পবিত্র সৎ জীবন যাপনে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা জোগাবে।

No comments