সৎ থাকার চেষ্টা করুন
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনি সৎ থাকার চেষ্টা করুন। যে কোন ধরনের অশুভ চিন্তা জীবনকে সংকীর্ণ করে ফেলে। যে কোন সৎ প্রচেষ্টা আপনার বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। আর এই বিশ্বাসের ভিত্তি আপনার মনে।
ধরুন, আপনি চুরি করেছেন। কেউ তা দেখতে পায়নি কিন্তু আপনি যে চুরি করলেন তা আপনার চাইতে ভাল আর কেউ জানবে না। কেউ দেখুক আর নাইবা দেখুক আপনার মন তা দেখছে এবং মনের যে যুক্তি আছে তা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। আপনি যদি আপনার গৃহ ও কর্মক্ষেত্রে সৎ থাকেন তবে তা আপনার পরিবারের অন্যান্যদের ওপরেও তার প্রভাব ফেলবে। ধরুন, আপনি আপনার শিশুকে সুস্থ, সুন্দর ও নৈতিকতা বোধ সম্পন্ন সমাজের একজন উপযোগী ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সেক্ষেত্রে আপনার স্বামী-স্ত্রীর উপস্থিতি এবং স্নেহ-মমতা একান্ত প্রয়োজনীয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনার নিজেকে একজন পছন্দনীয় ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যাকে লোকে পছন্দ করে না, সে কখনো কেবলমাত্র বলপ্রয়োগ উচ্চাসন লাভ করতে পারে না। একা সবার সাথে বল প্রয়োগ সম্ভব নয়। প্রতিটি মানুষই তার জীবনের পরিবার, সমাজ থেকেই সৎ ও আদর্শবাদীতার শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। তাই আপনার সন্তানকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গেলে আপনার অবদান কিন্তু কম নয়। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে পরিবার, সমাজ একটা সন্তানকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেও তাকে আদর্শবান, সামাজিক, সত্যবাদী এবং নৈতিকতা বোধ শিক্ষা দিতে পারে না। বরং তাকে বিপদগামী করতে সমাজে অনেক মানুষ আছে তাকে কু-পরামর্শ দিবে এবং তাকে দিয়ে খারাপ কাজ করাবে। এক্ষেত্রে বিহারের একজন ভিক্ষুর কাছে পাঠালে। সে তাকে অবশ্যই ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। কারণ একজন ভিক্ষু কোন দিন কাউকে সামান্যতম খারাপ কিছু করতে উপদেশ দেবে না। সে ভিক্ষু তাকে কোন দিন প্রাণী হত্যা করতে, চুরি করতে, অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক করতে, মিথ্যা কথা বলতে, মদ, গাজা, ইয়াবা ইত্যাদি মাদক দ্রব্য সেবন করতে, মা-বাবা, মুরুব্বিদের সাথে অসৎ আাচরণ করতে, মারামারি করতে, কাউকে হিংসা করতে, কারো জিনিস লোভ করতে বলবে না। ভিক্ষুটি তাকে কর্মফল সম্পর্কে, শীল পালনের সুফল-কুফল সম্পর্কে, চারি আয্য সত্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে বোঝাবে। সর্বোপরি তাকে সে সর্ব দুঃখ থেকে মুক্তি হতে বলবে।

No comments